একটি মাতালের মৃত্যুর পরে মোমবাতি জ্বলে এই শহরে!

রোহিত, নাজিব, সুশীলদের শপথ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি তৈরি করা।  আসুন শপথ নিন। নাজিব, সুশীলকে ফিরিয়ে আনা হোক আমাদের লক্ষ্য। জয় ভীম। ...

अतिथि लेखक

Rohit Vemula phenomenon continues!
JNU Student Najib still missing! Jadavpur Univarsity Santhal M.Phil student Sushil Madni is also Missing!

Sardindu Uddipan,

Dalit Solidarity network complaints Silence in the Hok KOLROB plus civil society Camp!
সুশীল কোথায়?

একটি মাতালের মৃত্যুর পরে মোমবাতি জ্বলে এই শহরে! বিদ্বজ্জনেরা রাস্তায় নামেন। মাতালের স্বাধিকারের জন্য গলা ফাটায় !! মিছিল চলে রাজপথ জুড়ে !! 
কিন্তু হায়!!

সুশীল মান্ডির নিরুদ্দেশ নিয়ে এই বিদ্বজ্জনেদের কোন সাড়া পাওয়া যায় না। কেননা সুশীল দলতি-বহুজন সমাজের মানুষ। একজন আদিবাসী। হতে পারে সে গবেষক। হতে পারে সে শ্রম এবং উৎপাদনের সাথে জড়িত বৃহত্তর মানুষের রক্তে বোনা ফসল। তাতে বাবুদের কি। তাতে এলিটদের কি। প্রভূদের ভজনা করে গণ্ডে পিণ্ডে উচ্ছিষ্ট ভোজন করতে পারলেই তাদের শান্তি। প্রভূদের সুখেই তাদের সুখ। প্রভূদের বিপদ মানে তাদের বিপদ। 

সুশীল মান্ডি হুগলী জেলার ধনিয়াখালি থানার রোজিপুর গ্রামের সাঁওতাল সন্তান। পিতা শিবু মান্ডি একজন খেটে খাওয়া মজদুর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভাষাতত্ত্ব বিভাগের একজন M. Phil Scholar. বিগত কয়েক বছর ধরে সে সামাজিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোককলরব এবং রোহিত ভেমুলার স্বাধিকার আন্দোলনে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে সুশীল। দলতি-বহুজন ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে তৈরি করেছে সংগঠন। পাশাপাশি সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যারডিক্যাল গ্রুপেরও একজন সক্রিয় কর্মী। 

গত ০২/০২/২০১৭ তারিখ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরের দিন তার দাদা হারাধন মান্ডি যাদবপুর থানায় অভিযোগ করে জানান যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিট সম্প্রদায়ের কিছু ছেলে মেয়ে তার ভাইয়ের চরিত্র হনন করার জন্য ফেসবুকে এমন কিছু পোষ্ট দেয় যা তার কাছে চরম অমর্যাদাকর। তিনি আরো জানান যে সুশীলের এই নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে জাতি বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং অবজ্ঞা। 

বিশেষ সূত্র থেকে জানা যায় যে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য বাথরুমগুলো বন্ধ আছে। ছাত্রছাত্রীরা এ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ দেয়। বলা হয় নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত বাথরুমগুলি না খুললে তা ভেঙ্গে দেওয়া হবে। গত ১৬ই জানুয়ারি ছিল এই তালা ভাঙার দিন। এই ঘটনার পরে আম্বি রাজ নামে একটি মেয়ে তার বন্ধু নবোত্তমাকে জানায় যে আন্দোলনের সময় র্যা ডিক্যাল গ্রুপের একটি ছেলের কাছ থেকে সে হেনস্থার শিকার হয়েছে (she was groped by a member of Radical, time and again) এ নিয়ে সে ফেসবুকে একটি পোষ্টও করে। তার এই প্রথম পোষ্টে কোথাও Molestation কথাটি ব্যবহার করা হয় নি বা সুশীলের নামও ব্যবহার করা হয়নি। এই পোষ্টের পর র্যা ডিক্যালের জুবি সাহা এবং ইউএসডিএফ এর নবোত্তমাকে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুজনেই একমত হয় যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্য দিয়ে যদি কেউ কোন ভুল করে থাকে তবে সে ক্ষমা চেয়ে নেবে। প্রকাশ থাকে যে আম্বি রাজ সুশীল মান্ডি এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে নবোত্তমাকে জানায়। সুশীলের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায় যে এই ঘটনার বিষয়ে সে কিছুই জানে না। তবুও অসচেতন ভাবে তার আচরণে যদি কারো খারাপ লাগে তবে সে ক্ষমা চাইবে। এ নিয়ে উভয় ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একটি সভার আয়োজন করা হয় কিন্তু শর্ত রাখা হয় যে এই সভায় সুশীল উপস্থিত থাকবে না। এই সভায় আম্বি রাজ জানায় যে ঘটনার দিন সুশীল মান্ডি আম্বির কাছ থেকে সিগারেটের কাউন্টার নিয়েছে, তাকে improperly touch করেছে। র্যা ডিক্যাল গ্রুপ সুশীলের বক্তব্য শোনার দাবী রাখলেও তা মানা হয় নি। এর পরে ইউএসডিএফ থেকে একটি যৌথ পোষ্ট দিয়ে সুশীলকে অভিযুক্ত সাব্যস্ত করা হয় এবং আবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে সুশীলকে যৌন হেনস্থার জন্য দোষী ঘোষণা করা হয়। 

এখানে বলে রাখা ভাল যে ক্যাম্পাসের মধ্যে এই যৌনহেনস্থা নিবারণের জন্য একটি Internal complain Committee এবং Sexual harassment Cell আছে। ইউএসডিএফ থেকে সেখানে অভিযোগ না জানিয়ে নিজেরাই বিচার করে সুশীলকে অভিযুক্ত সাব্যস্ত করেছে। ফেসবুকে একাধিক পোষ্ট দেওয়া হয় এবং সুশীলকে চরম ভাবে অপমান করা হয়। এই কান্ডে যারা জড়িত তারা হল, 
১। সৌম্য মণ্ডল (বহিরাগত ছাত্র, ইউডিএসএফ এর সম্পাদক)
২। দিব্যকমল মিত্র(ইংরেজী পিজি-২)
৩।কৌস্তব মণ্ডল (এক্স সডুডেন্ট)
৪। অম্বুজা রাজ (ফিল্ম স্টাডিজ- পিজি-১)
৫। নবোত্তমা পাল (ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন, পিজি-১) 
 তাকে এই ভাবে বলির পাঁঠা সাব্যস্ত করার পরে সুশীল ভয়ংকর ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। নিজেকে গুটিয়ে নেয়। বন্ধুদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। এই সময় ভাঙ্গড় নিয়ে তুমুল আন্দোলন চললেও তাতে সে অংশগ্রহণ করে না। কেমন যেন খালি হয়ে যায় তার বুক। এত লড়াই এত আত্তত্যাগ একেবারে ফেকাশে মনে হয়। মনে হয় দলিত হয়ে জন্মানোটাই একটি অভিশাপ। এই সমাজ, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় একজন দলিতের সার্বিক বিকাশের কোন সম্ভাবনা নেই। মেকি সমাজ, মেকি বন্ধুত্ব, মেকি সব সাংগঠনিক স্বপন। এলিট মগজের মধ্যে শুধু ঘৃণা আর জাতপাত। এই সব বড় বড় ভাষণ আর গলাবাজি একজন দলিতের কোন কাজে লাগবে না। 
 এরপর গত ০২.০২.২০১৭ তারিখে কাউকে না জানিয়ে সে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আজ ১০দিন হয়ে গেল ছেলেটির কোন খোঁজ নেই। পুলিশ প্রশাসন ঠুটো জগন্নাথ। বুদ্ধিজীবীরা ভরপেট উচ্ছিষ্ট খেয়ে নিদ্রামগ্ন !! একটি রাস্তায় খোলা আছে আমাদের সামনে। একেবারে শেষ দেখে ছাড়া। তিলে তিলে ঘৃণা এবং আত্তহননের চেয়ে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধিকার অর্জন করা।

রোহিত, নাজিব, সুশীলদের শপথ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ভূমি তৈরি করা। 
আসুন শপথ নিন।
নাজিব, সুশীলকে ফিরিয়ে আনা হোক আমাদের লক্ষ্য।
জয় ভীম।
 

हस्तक्षेप से जुड़े अन्य अपडेट लगातार हासिल करने के लिए हमें
facebook फेसबुक पर फॉलो करे.
और
facebook ट्विटर पर फॉलो करे.
"हस्तक्षेप"पाठकों-मित्रों के सहयोग से संचालित होता है। छोटी सी राशि से हस्तक्षेप के संचालन में योगदान दें।
क्या मौजूदा किसान आंदोलन राजनीति से प्रेरित है ?