Home » নাগরিকত্ব সংশোধণীর একমাত্র প্রয়োজন উদ্বাস্তু বিতাড়ন

নাগরিকত্ব সংশোধণীর একমাত্র প্রয়োজন উদ্বাস্তু বিতাড়ন

সুখবর,  এখনো লিখছেন সমাজ সচেতন অর্থশাস্ত্রী ড-অশোক মিত্র এবং আমাদের প্রাণের কথা, অস্তিত্ব সঙকটের বিবরণ তাঁরই মুখে!
প্রসঙ্গঃবহিরাগত? ভারততীর্থে কে বহিরাগত নয়?
পলাশ বিশ্বাস
খবর, এখনো লিখছেন সমাজ সচেতন অর্থশাস্ত্রী ড-অশোক মিত্র এবং আমাদের প্রাণের কথা, অস্তিত্ব সঙকটের বিবরণ তাঁরই মুখে!
বহিরাগত? ভারততীর্থে কে বহিরাগত নয়?
আজকের আনন্দবাজারে এই অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়ে লিখেছেন সমাজ সচেতন অর্থশাস্ত্রী ড-অশোক মিত্র।
আমাদের জীবন জীবিকা অস্তিত্ব পরিচিতি যে ছেঁড়া মালার মত ছড়িযে তার সুতো ধরে এই বুঝি মারলেন টান অবিভক্ত বাংলা এবং অবশ্যই বিশ্ব কবি  সতত স্মরণে বিস্মৃত যার জীবন দর্শন লালন ফকীরের গানের মত, সেইতাঁর ভারততীর্থের শেষ উত্তরসূরী।
তাঁর মতে, ‘বহিরাগত’ না খোঁজাই ভাল। ছত্তীসগঢ় অথবা কোরাপুট কিংবা পালামু পরগনার কোনও আদিবাসী যুবক বলে বসবেন,  ‘মশাই,  আমরাই একমাত্র আদি অধিবাসী,  বাকি আপনারা সবাই বহিরাগত,  দয়া করে নিষ্ক্রান্ত হোন।’
সুখবর, এখনো লিখছেন সমাজ সচেতন অর্থশাস্ত্রী ড-অশোক মিত্র।
আমি বাস্তুহারা বাংলার ইতিহাস ভূগোল থেকে বহিস্কৃত বেনাগরিক এক অন্ত্যজ উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান, তাই তিনি যা লিখেছেন, তা আমার প্রাণে বীণার তারে সুরের ঝন্কার, বাংলার ব্রাত্যজনের ইতিকথা।
আপিলা চাপিলার অশোক মিত্রের দেশে আমাদেরও কোনো কালে শরিকানা হক ছিল, যা বাঙালির আর মনে নেই।
না হলে পশ্চিম বঙ্গের বাইরে যে টুকরো টুররো অসংখ্য বাংলায় আন্দামান, দন্ডকারণ্য, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, আসাম থেকে তামিলনাডু কর্ণাটক হয়ে এই দেশের সব মহানগরে নগরে জনপদে বাংলার চেয়ে অনেক বেশি যে বাঙালি শ্রমিকের মত আজও পিলসুজের আলো আঁধারে বহিরাগতের মত জীবনযন্ত্রণায় বাঙালিত্ব বিসর্জন দিতে বাধ্য হচ্ছে মাতৃভাষার মত, সে কথা বাংলার সমাজ জীবনে, রাজনীতিতে, সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে প্রতিবিম্বিত হত।
বাংলা এক সুতোয় সারা বিশ্বের সঙ্গে জড়িয়ে, কিন্তু যেমন পূর্ব বঙ্গ নিয়ে তাঁর কোনো স্মৃতি তাঁকে বনলতা সেনের বিদিশার অন্ধকারের মত চুলের কথা মনে করায় না।
তেমনি আবার বাংলার বাইরে এই ভারততীর্থে যে বাঙালিরা ভারত ভাগের বলি হয়ে ভারত তীর্থের প্রতি ধুলি কণায় আজও অস্পৃশ্য অন্ত্যজ ব্রাত্যজন হয়ে বহিরাগত,  বেনাগরিক সেই সমস্ত স্বজনের সঙ্গে কোনো আত্মীয়তার বন্ধনে বাঁধা পড়ার দায় তার নেই।
তাই বহিরাগত ঔ অন্ত্যজ ব্রাত্যজনদের বধ্যভূমি মরিচঝাঁপিতে উদ্বাস্তু গণসংহার নিয়ে বৌদ্ধিক ভদ্র বাঙালির নাগরিকত্ব, সভ্যতা, নাগরিক ও মানবাধিকারের কোনো দায় নেই।
বাংলার বাইরের বাঙালি ভূগোল নিয়ে বাঙালির প্রামের কোনো টানই নেই।
তাই সারা দেশে যখন শাসকের রাজনীতি ও বাঙালি বসতির জমিতে করপোরেট গিদ্ধ দৃষ্টির সমাবেশে নাগরিকত্ব সংশোধনী বারম্বার, বাংলার বা বাংলার রাজনীতির কিচ্ছু যায় আসে না।
উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ শুধু তাই মতুয়া ভোট সমীকরণের বীজগণিত যা বীজমন্ত্র উদ্বাস্তু ব্রাত্যজনবিদ্বেষের অহন্কারেি উচ্চারিত, বাংলার সমর্থন কোনো দিনই উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের দাবিতে ছিল না, আজও নেই।
ভারত ভাগের বলি পান্জাবও, কিন্তু সারা দেশে এমন কোনো পান্জাবি নেই, যার পান্জাবের সঙ্গে নাড়ির বাঁধন নেই।
সারা দেশে যখন শিখ সংহারের উত্সব, সেই মহাবিপর্যয়েও সমস্ত পান্জাবিকে সন্ত্রাসবাদী সাব্যাস্ত করার মহাআয়োজনেও কোনো শিখকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার সময়ও বিদেশি বলার দুস্সাহস করেনি কেউ।
অথচ পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বাংলায় কথা বললেই যে কোনো বাঙালি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারি বলে চিন্হিত এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করার দায় তাঁদেরই।নাগরিকত্ব সংশোধণীর একমাত্র প্রয়োজন উদ্বাস্তু বিতাড়ন।
বিডম্বনা বারম্বার  শুধু বাঙালিকে ভারতভাগের বলি করা হয় সারা দেশে, তার বিরুদ্ধে বাংলার গর্জে ওঠার নজির নেই, বরং বংলা থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দল মত নির্বিশেষ সমর্থনেই পথে ঘাটে, জনপদে এই দুর্ঘটনা রোজই ঘটছে।
এই ভারততীর্থে, মহামানবসগরতীরে সভ্যতার কত ধারা হল লীন। আর্য, দ্রাবিড়, শক,  হুন,  কুশান, মুঘল,  পাঠান সবারই নাগরিকত্বে সমান অধিকার, শুধু পূর্ব বাংলার ভারত ভাগের বলি উদ্বাস্তুরা বেনাগরিক,  অনুপ্রবেশকারি এবং সারা দেশে তাঁদের বিতাড়নের নিত্য নূতন আয়োজন।
কবিগুরুর কথা মত এই দুর্ভাগা দেশ আমাদের দুর্ভাগ্যের কোনো দায় আজ আর বহন করেনা, খেদাতে পারলে বর্তে যায়।
গত নির্বাচনে হিন্দুদের শরণার্থী ও মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারি বলে সারা দেশে এবং অবশ্যই পশ্চিম বঙ্গের সমস্ত জনপদে গৌরিক সুনামি তুলেছেন , যে মোদী বাঙালি বহিরাগতদের তাড়াতে তিনি আবার নাগরিকত্ব সংশোধণী আনছেন যেমনটি বাজপেয়ী সরকার এনে বাঙালিদের নাগরিকত্বকে খারিজ করার অশবমেধ শুরু করেছিলেন।
মোদী মহারাজ বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে সাতচল্লিশের পর যারা এসেছেন, তাঁদের সীমার ওপারে যাওয়ার জন্য বাসক্স প্যাঁটরা গুছিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বার বার।
সাতচল্লিশে যারা এসেছিলেন, যেমন আমারমা বাবা ঠাকুমা এবং আমাদের পূর্বসুরীরা, তাঁরা আর বেঁচে নেই।
যেহেতু তাঁরা হিন্দু ছিলেন এবং বাংলা ভাগের ফলে হিন্দুত্ব বিপর্যস্ত বলে এই ভারততীর্থে শরণার্থী হয়েছিলেন, মরার পর শ্মশানঘাটেই তাঁদের ঠাঁই হয়েছে, কবর থেকে দেহ তুলে ওপারে পাঠাবার ব্যবস্থা হয়ত হিন্দুদ্বের হ্রদয় সম্রাট ইচ্ছা থাকলেও করতে পারবেন না।সান্ত্বনা শুধু এতটূকু।
হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্বের কোনো ব্যাবস্থাই করছে না নূতনসংশোধনী এবং আমাদের যে অবস্থান ইতিপূর্বে oছিল, সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা আজও এই দেশের মাটিতে সেই সন সাতচল্লিশের পর প্রজন্মের পর প্রজন্ম কাটিয়ে দিয়েও বেনাগরিক, বহিরাগত, অনুপ্রবেশকারি।
ডঃ অশোক মিত্র, যার আপিলা চাপিলার একটি অংশ আমিও হিন্দিতে অনুবাদ করেছি, এবং কালে ভদ্রে তাঁর স্নেহধন্য হওয়ার মহার্ঘ সুযোগও ঘটেছে, তাঁকে এবং অবশ্যই আনন্দবাজার পত্রিকাকে এই জরুরি লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।
-0-0-

বহিরাগত? ভারততীর্থে কে বহিরাগত নয়?
অশোক মিত্র
দু’টি শব্দ নিয়ে কিছু দিন ধরে ঈষৎ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে,  উভয় শব্দই আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় বিশেষণের গুণ সম্পন্ন,  কিন্তু বিশেষ্য হিসেবেও তাদের প্রয়োগ মেনে নেওয়া হয়েছে। প্রথম শব্দটি ‘বহিরাগত’,  অন্যটি ‘অনুপ্রবেশকারী’। যাঁরা শব্দদ্বয় প্রথম ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন,  তাঁদের মনে বোধকরি কোনও দ্বিধা ছিল না যে,  বহিরাগত তথা অনুপ্রবেশকারীরা ভর্ৎসনা তথা নিন্দার যোগ্য।

ব্যাপারটি কিন্তু তত সহজ নয়। ‘বহিরাগত’ দিয়েই শুরু করা যাক। বহিরাগত,  অর্থাৎ যাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন,  আমাদের কেউ নন,  আমাদের থেকে আলাদা। মুশকিল হল,  স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ একটা কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন। কলকাতা বা অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় বসে তিনি যদিও কোনও ডিগ্রি অর্জন করেননি,  তাঁর কথা তো এলেবেলে বলে পাশে সরিয়ে রাখা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়! ‘ভারততীর্থ’ শিরোনামে এক কবিতা রচনা করে তিনি সেই কবে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন,  এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে সব গোত্রের বহিরাগতরা জড়ো হয়েছেন,  পরস্পরের সঙ্গে মিলে গেছেন,  মিশে গেছেন,  ‘শক হুণ দল পাঠান মোগল’ সেই সঙ্গে এমনকী দ্রাবিড় চিন-ও। আরও ঝামেলা,  ‘পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার’,  সেখান থেকেই বিস্তর উপহার-উপঢৌকন আসছে,  সে-সব বহন করে মানুষজনও আসছেন,  তাঁরাও ভারততীর্থে অন্যদের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছেন। অর্থাৎ,  ভারতবর্ষে সবাই বহিরাগত,  কিংবা ঘুরিয়ে বলতে হয়,  বহিরাগতরাই ভারতবাসী।

Copy and paste from “Anand Bazar Patrika” with courtesy. Read full article on 

http://www.anandabazar.com/editorial/%E0%A6%AC%E0%A6%B9-%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%A4-%E0%A6%AD-%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%A4-%E0%A6%B0-%E0%A6%A5-%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A6%B9-%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%A4-%E0%A6%A8%E0%A7%9F-1.85521

About the author

पलाश विश्वास। लेखक वरिष्ठ पत्रकार, सामाजिक कार्यकर्ता एवं आंदोलनकर्मी हैं। आजीवन संघर्षरत रहना और दुर्बलतम की आवाज बनना ही पलाश विश्वास का परिचय है। हिंदी में पत्रकारिता करते हैं, अंग्रेजी के लोकप्रिय ब्लॉगर हैं। “अमेरिका से सावधान “उपन्यास के लेखक। अमर उजाला समेत कई अखबारों से होते हुए अब जनसत्ता कोलकाता में ठिकाना। पलाश जी हस्तक्षेप के सम्मानित स्तंभकार हैं।

About हस्तक्षेप

Check Also

भारत में 25 साल में दोगुने हो गए पक्षाघात और दिल की बीमारियों के मरीज

25 वर्षों में 50 फीसदी बढ़ गईं पक्षाघात और दिल की बीमांरियां. कुल मौतों में से 17.8 प्रतिशत हृदय रोग और 7.1 प्रतिशत पक्षाघात के कारण. Cardiovascular diseases, paralysis, heart beams, heart disease,

Bharatendu Harishchandra

अपने समय से बहुत ही आगे थे भारतेंदु, साहित्य में भी और राजनीतिक विचार में भी

विशेष आलेख गुलामी की पीड़ा : भारतेंदु हरिश्चंद्र की प्रासंगिकता मनोज कुमार झा/वीणा भाटिया “आवहु …

राष्ट्रीय संस्थाओं पर कब्जा: चिंतन प्रक्रिया पर हावी होने की साजिश

राष्ट्रीय संस्थाओं पर कब्जा : चिंतन प्रक्रिया पर हावी होने की साजिश Occupy national institutions : …

News Analysis and Expert opinion on issues related to India and abroad

अच्छे नहीं, अंधेरे दिनों की आहट

मोदी सरकार के सत्ता में आते ही संघ परिवार बड़ी मुस्तैदी से अपने उन एजेंडों के साथ सामने आ रहा है, जो काफी विवादित रहे हैं, इनका सम्बन्ध इतिहास, संस्कृति, नृतत्वशास्त्र, धर्मनिरपेक्षता तथा अकादमिक जगत में खास विचारधारा से लैस लोगों की तैनाती से है।

National News

ऐसे हुई पहाड़ की एक नदी की मौत

शिप्रा नदी : पहाड़ के परम्परागत जलस्रोत ख़त्म हो रहे हैं और जंगल की कटाई के साथ अंधाधुंध निर्माण इसकी बड़ी वजह है। इस वजह से छोटी नदियों पर खतरा मंडरा रहा है।

Ganga

गंगा-एक कारपोरेट एजेंडा

जल वस्तु है, तो फिर गंगा मां कैसे हो सकती है ? गंगा रही होगी कभी स्वर्ग में ले जाने वाली धारा, साझी संस्कृति, अस्मिता और समृद्धि की प्रतीक, भारतीय पानी-पर्यावरण की नियंता, मां, वगैरह, वगैरह। ये शब्द अब पुराने पड़ चुके। गंगा, अब सिर्फ बिजली पैदा करने और पानी सेवा उद्योग का कच्चा माल है। मैला ढोने वाली मालगाड़ी है। कॉमन कमोडिटी मात्र !!

Entertainment news

Veda BF (वेडा बीएफ) पूर्ण वीडियो | Prem Kahani – Full Video

प्रेम कहानी - पूर्ण वीडियो | वेदा BF | अल्ताफ शेख, सोनम कांबले, तनवीर पटेल और दत्ता धर्मे. Prem Kahani - Full Video | Veda BF | Altaf Shaikh, Sonam Kamble, Tanveer Patel & Datta Dharme

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: